আপনার শিশুর কথা বলার জাদুকরী বিকাশ অজানা রহস্য উন্মোচন

webmaster

어린이의 구술 발달 - **Prompt 1: Joyful Interactive Playtime**
    A bright, warm indoor scene featuring a mother and her...

আহ, ছোট্ট সোনামণিদের আধো আধো কথা শুনতে কার না ভালো লাগে বলুন তো! ওদের প্রতিটি নতুন শব্দ যেন মায়ের কানে মধুর সুরের মতো বাজে, বাবার মুখে আনে তৃপ্তির হাসি। আমার নিজের অভিজ্ঞতাতেও দেখেছি, সন্তানের প্রথম ‘মা’ ডাক শোনার জন্য আমরা কতটা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। কিন্তু জানেন কি, আজকাল অনেক মা-বাবাই একটা নতুন চিন্তায় ভোগেন?

শিশুরা দেরিতে কথা বলছে, এই সমস্যাটা যেন এখন খুবই সাধারণ হয়ে উঠেছে। চারপাশে তাকালেই দেখা যায়, ছোট ছোট শিশুরা গ্যাজেটের প্রতি বেশি আসক্ত, আর বাবা-মায়ের সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে কম। এতে তাদের কথা বলার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা সত্যি বলতে মন খারাপ করে দেয়। অথচ এই ছোট্ট বয়সটাই তো ওদের মস্তিষ্কের বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। আমরা যদি একটু সচেতন হই, একটু সময় দিই, তাহলেই কিন্তু এই সমস্যা অনেকটাই এড়ানো যায়। শিশুর সঠিক মৌখিক বিকাশে আমাদের প্রত্যেকেরই একটা বড় ভূমিকা আছে, আর এটা শুধু শেখানো নয়, ভালোবাসার সাথে গড়ে তোলারও ব্যাপার। আমি যখন ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের সাথে কথা বলি, তখন দেখি ওরা কত কিছু শিখতে চায়, বলতে চায়। একটুখানি উৎসাহ আর সঠিক পথ দেখালে ওরা ঠিকই ঝলমলে হয়ে ওঠে। আমাদের ছোট্ট সোনামণিদের কথা বলার এই অসাধারণ যাত্রাটা কিভাবে আরও সুন্দর করা যায়, কী কী করলে ওদের মুখের কথা দ্রুত ফুটবে, আর কেমন করে ওদের ভাষাজ্ঞান আরও সমৃদ্ধ হবে – এসব নিয়েই আজ আপনাদের সাথে কিছু বিশেষ টিপস আর আমার নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেব। চলুন, তাহলে দেরি না করে বিস্তারিত জেনে নিই!

স্ক্রিন টাইম কমানো: কেন এটা এত জরুরি?

어린이의 구술 발달 - **Prompt 1: Joyful Interactive Playtime**
    A bright, warm indoor scene featuring a mother and her...

গেজেটের নেশা আর ভাষা বিকাশের বাধা

আজকালকার দিনে ছোটদের হাতে ফোন বা ট্যাবলেট দেখাটা যেন খুব সাধারণ একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই না? কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা বলে, এই স্মার্টফোন আর ট্যাবলেটের প্রতি শিশুদের আসক্তি ওদের কথা বলার ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। যখন একটি শিশু ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে, তখন সে আশেপাশের মানুষের সাথে সরাসরি মিথস্ক্রিয়া করার সুযোগ পায় না। ওরা শুধু একমুখী তথ্য পায়, কিন্তু কথা বলা, শোনা, উত্তর দেওয়া – এই পারস্পরিক আদান-প্রদান থেকেই কিন্তু ভাষা বিকশিত হয়। আপনি হয়তো ভাবছেন, ‘আরে বাবা, কার্টুন দেখছে, কিছু তো শিখছে!’ কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, স্ক্রিন থেকে পাওয়া তথ্য শিশুদের মস্তিষ্কের ভাষা প্রক্রিয়াকরণ অংশকে ততটা উদ্দীপিত করতে পারে না, যতটা মানব কণ্ঠস্বর এবং সরাসরি যোগাযোগ করে। আমার নিজের এক বন্ধুর ছোট ছেলেটার কথাই ধরুন। চার বছর বয়স পর্যন্ত সে ঠিকমতো কথা বলতে পারতো না, শুধু মোবাইল দেখতো। পরে যখন মোবাইল ব্যবহার একদম কমিয়ে দেওয়া হলো এবং তার সাথে খেলাধুলা ও গল্প বলা শুরু হলো, তখন ম্যাজিকের মতো তার ভাষার বিকাশ হতে শুরু করলো। তাই, গ্যাজেটের নেশা থেকে শিশুদের দূরে রাখাটা শুধু একটা অভ্যাস পরিবর্তন নয়, বরং ওদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য একটা জরুরি পদক্ষেপ। এই বিষয়ে একটু সচেতন হলেই দেখবেন আপনার সোনামণির কথা বলার পথে অনেকটাই সুবিধে হচ্ছে।

বিকল্প বিনোদনের জাদুময় পৃথিবী

অনেকেই বলেন, ‘মোবাইল না দিলে বাচ্চারা শান্ত থাকে না, বিরক্ত করে।’ কিন্তু এর একটা দারুণ সমাধান আছে – বিকল্প বিনোদন! সত্যি বলতে, গ্যাজেট সরিয়ে নিলেই শিশুদের জন্য নতুন এক জগতের দরজা খুলে যায়। আমি দেখেছি, শিশুরা যখন হাতে রং পেন্সিল, ছবি আঁকার খাতা, বা ব্লকস পায়, তখন তাদের সৃজনশীলতা কত দারুণভাবে বেড়ে যায়। বাড়ির ভেতরেই লুকোচুরি খেলা, পুতুল খেলা, বা মা-বাবা এবং ভাই-বোনদের সাথে বল খেলা – এই সব সাধারণ খেলাধুলাই ওদের কথা বলার অভ্যাসের জন্য দারুণ সহায়ক। যেমন ধরুন, লুকোচুরি খেলার সময় ‘কোথায় আছো?’, ‘আমি খুঁজে পেয়েছি!’ – এই ছোট ছোট বাক্যগুলো বারবার বলা হয়, যা ওদের শব্দভাণ্ডার বাড়ায়। পার্কে নিয়ে যাওয়া, বন্ধুদের সাথে খেলাধুলার সুযোগ করে দেওয়া, বা প্রকৃতির সাথে পরিচিত করানো – এগুলোও দারুণ বিকল্প। আমার পরিচিত এক পরিবার আছে, তারা সপ্তাহে একদিন ‘নো স্ক্রিন ডে’ পালন করে। ওই দিনটায় তারা সবাই মিলে বোর্ড গেম খেলে, গল্প পড়ে, বা বাগানে কাজ করে। আমি দেখেছি, তাদের ছেলে-মেয়েগুলো কত হাসিখুশি আর প্রাণবন্ত। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই বিকল্প বিনোদনগুলো কেবল ভাষা বিকাশে সাহায্য করে না, বরং শিশুদের সামাজিক দক্ষতা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাও বাড়িয়ে তোলে। তাই, একটুখানি চেষ্টা আর উদ্ভাবনী ভাবনা দিয়ে আমরা কিন্তু আমাদের সোনামণিদের জন্য আরও সুন্দর একটা পৃথিবী তৈরি করতে পারি।

কথা বলার আনন্দ: খেলাচ্ছলে শেখার নতুন উপায়

দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে কথার জাল বোনা

শিশুদের কথা বলার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য আনুষ্ঠানিক পাঠদানের দরকার নেই। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট কাজগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে ভাষা শেখার দারুণ সুযোগ। যেমন ধরুন, যখন আপনি বাচ্চাকে গোসল করাচ্ছেন, তখন বলতে পারেন, ‘চলো, এখন তোমার মাথায় শ্যাম্পু লাগাই, কেমন লাগছে?’, ‘সাবান দিয়ে হাত ধোবো, ফেনা হচ্ছে দেখো!’ অথবা যখন খাবার তৈরি করছেন, তখন বলতে পারেন, ‘এখন ডিম ভাজছি, ডিমটা ভেঙে গরম তেলে দিলাম।’ এই যে প্রতিটি কাজের বর্ণনা দেওয়া, এর ফলে শিশুরা শুনতে শুনতে নতুন নতুন শব্দ শেখে এবং সেগুলোকে পরিস্থিতির সাথে মেলাতে পারে। এমনকি যখন তারা আপনার সাথে বাজার করতে যায়, তখন ফল বা সবজির নাম বলে তাদের সাথে কথা বলা, ‘এটা আপেল, এর রং লাল’, ‘এইটা বেগুন, দেখো কেমন লম্বা!’ – এগুলিও ওদের ভাষা বিকাশে দারুণভাবে সাহায্য করে। আমি যখন আমার ছোট বোনকে রান্নাঘরের কাজে সাহায্য করতাম, তখন ও আমাকে জিজ্ঞেস করত, ‘দিদি, এটা কী?’ বা ‘কেন এমন করছো?’। এই প্রশ্নোত্তর পর্বগুলো ওকে শুধু শব্দ শেখাতো না, বরং ওর জিজ্ঞাসা শক্তিকেও বাড়িয়ে দিত। সবচেয়ে জরুরি হলো, ধৈর্য ধরে ওদের কথা শোনা এবং উত্তর দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। এতে ওরা অনুভব করবে যে ওদের কথা বলার গুরুত্ব আছে, আর এতে ওরা আরও বেশি কথা বলতে উৎসাহিত হবে।

ভূমিকা অভিনয় আর মজার গল্প

শিশুদের ভাষা বিকাশের জন্য ভূমিকা অভিনয় বা রোল প্লে খুবই শক্তিশালী একটা মাধ্যম। ওরা যখন কোনো চরিত্র সেজে অভিনয় করে, তখন সেই চরিত্রের সংলাপ বলতে শুরু করে, যা ওদের শব্দভান্ডার এবং বাক্য গঠনে অনেক সাহায্য করে। যেমন ধরুন, ডাক্তার-রোগী খেলা, দোকানদার-ক্রেতা খেলা, বা স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী খেলা। এই খেলাগুলোতে শিশুরা বাস্তব জীবনের পরিস্থিতি অনুকরণ করে কথা বলতে শেখে। আপনি যদি একটু এগিয়ে এসে ওদের সাথে অংশ নেন, তাহলে ওরা আরও উৎসাহিত হয়। আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমার মা প্রায়ই আমাদের সাথে রাজা-রানীর খেলা খেলতেন। আমরা সবাই মিলে এক একটা চরিত্র হতাম আর সংলাপ বলতাম। আজও মনে আছে, সেই খেলাগুলো কতটা মজার ছিল এবং কত নতুন নতুন শব্দ শিখেছিলাম। এছাড়া, মজার মজার গল্প বলাও শিশুদের ভাষা বিকাশের জন্য অসাধারণ। গল্পের মাধ্যমে শিশুরা নতুন শব্দ, বাক্য গঠন এবং ধারণার সাথে পরিচিত হয়। গল্পের চরিত্রগুলো নিয়ে ওদের সাথে কথা বলুন, ‘আচ্ছা, গল্পের ভাল্লুকটা কী করছিল?’, ‘তোমার কি মনে হয়, এরপর কী হলো?’ – এই ধরনের প্রশ্ন ওদের চিন্তাশক্তিকে উস্কে দেয় এবং কথা বলার সুযোগ করে দেয়। মজার গল্প বলার সময় বিভিন্ন ভয়েস মডুলেশন এবং অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার করলে গল্পটা আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে এবং শিশুরা আরও মনোযোগ দিয়ে শোনে।

কার্যক্রমের ধরন ভাষা বিকাশে সুবিধা করণীয়
স্ক্রিন টাইম সীমিত শব্দ জ্ঞান, একমুখী যোগাযোগ, মনোযোগের অভাব মোবাইল/ট্যাবলেটের ব্যবহার সীমিত করুন, বিশেষ করে ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য।
কথা বলা ও আড্ডা শব্দভান্ডার বৃদ্ধি, কথোপকথনের দক্ষতা, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া শিশুদের সাথে সারাদিন কথা বলুন, ওদের প্রশ্নের উত্তর দিন, গান করুন।
বই পড়া ও গল্প বলা নতুন শব্দ শেখা, কল্পনাশক্তি বৃদ্ধি, পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ নিয়মিত বই পড়ুন, বিভিন্ন কণ্ঠে গল্প বলুন।
খেলাধুলা ও ভূমিকা অভিনয় সৃজনশীলতা বৃদ্ধি, পরিস্থিতিভিত্তিক ভাষা ব্যবহার, আত্মবিশ্বাস খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করুন, বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করুন।
Advertisement

বইয়ের পাতায় স্বপ্নের হাতছানি: গল্প বলা ও পড়া

ছোটদের জন্য বই পড়ার সঠিক পদ্ধতি

ছোটদের জন্য বই পড়াটা শুধু একটা অভ্যাস নয়, এটা একটা সুন্দর অভিজ্ঞতা, যেখানে মা-বাবা আর সন্তানের মধ্যে ভালোবাসার একটা সেতুবন্ধন তৈরি হয়। কিন্তু অনেকেই ভাবেন, বাচ্চারা তো ছোট, ওরা কি বুঝবে? আসলে ব্যাপারটা তেমন নয়! ছোট থেকেই বইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলে ওদের মস্তিষ্কের বিকাশ দ্রুত হয় এবং নতুন নতুন শব্দ শেখার আগ্রহ জন্মায়। আমি যখন ছোট ছিলাম, আমার ঠাকুরমা আমাকে প্রতিদিন রাতে ঘুম পাড়ানোর আগে গল্প পড়ে শোনাতেন। সেই বইগুলোর পাতায় ছবি দেখে দেখে আমি কত নতুন শব্দ শিখেছিলাম, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। শিশুদের জন্য এমন বই বেছে নিন যেখানে বড় বড় রঙিন ছবি আছে এবং বাক্যগুলো সহজ। বই পড়ার সময় ছবিগুলো দেখিয়ে তাদের সাথে কথা বলুন, ‘দেখো, এই পাখিটা উড়ছে!’, ‘এই কুকুরটা ঘেউ ঘেউ করছে!’। ওদেরকে প্রশ্ন করুন, ‘তোমার কী মনে হয়, এরপর কী হবে?’ বা ‘এই ছবিটায় কী দেখতে পাচ্ছো?’। এতে শিশুরা শুধু শুনতে শেখে না, বরং ভাবনাচিন্তা করতেও শুরু করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, বই পড়াটাকে ওদের জন্য একটা আনন্দময় অভিজ্ঞতা করে তোলা। জোর করে বই পড়াতে গেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই, প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটা সময় বরাদ্দ করুন যখন আপনি আপনার সোনামণির সাথে গল্প পড়বেন। এই সময়টুকু শুধুই আপনাদের দুজনের, যেখানে বাইরের কোনো গ্যাজেট বা অন্য কোনো চিন্তা আসবে না।

গল্প বলার মাধ্যমে কল্পনাশক্তি ও শব্দভান্ডার বৃদ্ধি

বই পড়া যেমন জরুরি, তেমনি গল্প বলাও শিশুদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর কারণ হলো, গল্প বলার মাধ্যমে শিশুরা তাদের কল্পনাশক্তিকে মেলে ধরার সুযোগ পায়। যখন আপনি কোনো গল্প বলেন, তখন শিশুরা তাদের মনে সেই চরিত্রগুলো, সেই পরিবেশগুলো তৈরি করে। এতে ওদের মস্তিষ্কের সৃজনশীল অংশগুলো সক্রিয় হয়। আর এই সৃজনশীলতা ভাষা বিকাশের জন্য অপরিহার্য। আমার নিজের একটা খুব প্রিয় অভ্যাস আছে, আমি প্রায়ই আমার ভাগ্নি-ভাগিনাদের জন্য নতুন নতুন গল্প বানাই। এই গল্পগুলোতে ওদের নিজেদের নাম, ওদের পছন্দের খেলনা, বা ওদের প্রিয় খাবার ঢুকিয়ে দিই। জানেন, ওরা কত উৎসাহ নিয়ে গল্পগুলো শোনে এবং গল্প শেষে কত প্রশ্ন করে! এতে ওরা শুধু নতুন শব্দই শেখে না, বরং সেগুলোকে বাস্তব জীবনের সাথে মেলাতে পারে। গল্প বলার সময় বিভিন্ন ধরনের শব্দ ব্যবহার করুন, যেমন – বিশেষণ (সুন্দর, বড়, ছোট), ক্রিয়া (দৌড়ানো, খাওয়া, ঘুমানো), এবং অনুভূতি প্রকাশক শব্দ (আনন্দ, দুঃখ, ভয়)। এতে ওদের শব্দভান্ডার দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, যখন আপনি গল্প বলছেন, তখন আপনার গলার স্বরের পরিবর্তন, মুখভঙ্গি, এবং অঙ্গভঙ্গিও খুব জরুরি। এগুলো গল্পকে আরও জীবন্ত করে তোলে এবং শিশুদের মনোযোগ ধরে রাখে। মনে রাখবেন, প্রতিটি গল্পই নতুন কিছু শেখার একটা সুযোগ, আর আপনার সোনামণির কল্পনার জগতকে সমৃদ্ধ করার একটা উপায়।

সুরের জাদুতে ভাষা শিক্ষা: গান আর ছড়ার ভূমিকা

তাল-লয়ে কথা শেখার সহজ পাঠ

গান আর ছড়ার মধ্যে এক অদ্ভুত জাদু আছে, যা শিশুদের ভাষা শেখাকে করে তোলে আনন্দময় এবং সহজ। যখন একটি শিশু ছড়া শোনে বা গান গায়, তখন সে সুরের তালে তালে শব্দগুলো মনে রাখতে পারে। ছড়ার পুনরাবৃত্তিমূলক কাঠামো এবং তাল-লয় শিশুদের মস্তিষ্কে শব্দগুলো গেঁথে দিতে সাহায্য করে। আমার নিজের ছোটবেলার কথা মনে আছে, যখন আমার দাদু আমাকে অনেক ছড়া শোনাতেন। ‘আয় আয় চাঁদ মামা’, ‘খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো’ – এই ধরনের ছড়াগুলো আমি না বুঝেই মুখস্থ করে ফেলতাম। আর এখন দেখি, আমার ছোট কাজিনরাও এই ছড়াগুলো শুনে শুনে কত সহজে নতুন শব্দ শিখছে। আসলে, সুরের সাথে যখন শব্দগুলো আসে, তখন সেগুলো মনে রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়। ছড়াগুলো শুধু শব্দ শেখায় না, বরং সঠিক উচ্চারণ এবং স্বরভঙ্গি সম্পর্কেও ধারণা দেয়। শিশুদের সাথে সহজ বাংলা ছড়া বা গান গাওয়া শুরু করুন। দেখবেন, প্রথম দিকে হয়তো ওরা শুধু গুনগুন করবে, কিন্তু ধীরে ধীরে শব্দগুলো ওদের মুখেও ফোটা শুরু করবে। এতে ওরা শুধু ভাষা শিখবে না, বরং আনন্দের সাথে শেখার একটা অসাধারণ অভিজ্ঞতাও পাবে। তাই, আপনার সোনামণির হাতে স্ক্রিন না দিয়ে বরং ওকে কোলে নিয়ে দুটো ছড়া বা গান শুনিয়ে দিন – দেখুন কত সুন্দর একটা পরিবর্তন আসে!

পরিবারে গানের পরিবেশ তৈরি

শিশুদের ভাষা বিকাশের জন্য বাড়িতে একটা গানের পরিবেশ তৈরি করাটা খুবই জরুরি। এর মানে এই নয় যে আপনাকে খুব ভালো গায়ক হতে হবে! আপনি যদি নিজের মতো করে হালকা সুরে দু’লাইন গান বা ছড়া গেয়ে শোনান, সেটাই যথেষ্ট। সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় একটা মজার গান, গোসল করানোর সময় জলের ছড়া, বা রাতে ঘুম পাড়ানোর সময় লোলাপের গান – এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোতেই কিন্তু শিশুরা ভাষা শেখার দারুণ সুযোগ পায়। আমি যখন পরিবারের ছোটদের সাথে সময় কাটাই, তখন প্রায়ই দেখি ওরা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনের গানগুলো কত সহজে মনে রাখে। এর কারণ হলো, ওই গানগুলোতে সুর আছে, তাল আছে। ঠিক তেমনি, আমরা যদি বাড়িতে শিশুদের সাথে মিলেমিশে গান করি, তাহলে ওরা শুধু ভাষা শিখবে না, বরং পারিবারিক বন্ধনও আরও দৃঢ় হবে। একসাথে গান গাওয়ার সময় শিশুরা একে অপরের কথা শুনতে শেখে, নিজেদের পালা আসার জন্য অপেক্ষা করতে শেখে, যা ওদের সামাজিক দক্ষতাও বাড়িয়ে তোলে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, গানের মাধ্যমে শিশুরা তাদের আবেগ প্রকাশ করতে শেখে। যেমন, আনন্দের গান, দুঃখের গান – এগুলোর মাধ্যমে শিশুরা বিভিন্ন অনুভূতির সাথে পরিচিত হয়। তাই, আজ থেকেই আপনার বাড়িতে গানের একটা ছোট্ট কোণ তৈরি করুন। দেখবেন, আপনার সোনামণির মুখ থেকে নতুন নতুন গান আর ছড়া কত সহজে বেরিয়ে আসছে!

Advertisement

ইঙ্গিত থেকে শব্দ: অনুকরণের গুরুত্ব

어린이의 구술 발달 - **Prompt 2: Enchanted Story Time**
    A cozy and inviting scene of a father and his young child (ar...

শিশুদের অনুকরণ করার সুযোগ দেওয়া

শিশুদের ভাষা বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো অনুকরণ। শিশুরা প্রথমে বড়দের আওয়াজ এবং অঙ্গভঙ্গি অনুকরণ করতে শুরু করে, আর এভাবেই ধীরে ধীরে শব্দ ও বাক্য তৈরি করতে শেখে। যখন একটি শিশু ছোট থাকে, তখন সে আপনার মুখভঙ্গি, ঠোঁট নাড়ানো, এবং আপনি কীভাবে শব্দ উচ্চারণ করছেন – এ সবকিছু খুব মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করে। আমি আমার ছোটবেলায় দেখেছি, আমার দিদি যখন কোনো নতুন শব্দ বলতেন, আমি চেষ্টা করতাম ঠিক সেভাবে উচ্চারণ করতে। প্রথম দিকে হয়তো ভুল হতো, কিন্তু বারবার চেষ্টা করার পর ঠিকই পারতাম। তাই, আপনাকে সচেতনভাবে এমন একটা পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে আপনার সোনামণি আপনাকে অনুকরণ করার সুযোগ পায়। যেমন, যখন আপনি ‘মা’ বা ‘বাবা’ বলছেন, তখন স্পষ্ট করে উচ্চারণ করুন এবং ওদের দিকে তাকান। ওদেরকে বলুন, ‘বল তো, মা!’ বা ‘বল, বাবা!’। যখন কোনো শব্দ উচ্চারণ করতে ওরা ভুল করে, তখন তিরস্কার না করে বরং সঠিক উচ্চারণটা আবার করে দেখান। শিশুরা খেলনার গাড়ি নিয়ে খেললে, আপনিও তার সাথে ‘ভু-ভু’ শব্দ করে গাড়ির আওয়াজ অনুকরণ করুন। যখন ওরা পুতুলকে খাওয়াচ্ছে, তখন ‘আহা, পুতুলটা খাচ্ছে!’ বলে আপনিও শব্দ করুন। এই ছোট ছোট অনুকরণগুলো ওদের মস্তিষ্কে ভাষার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে।

শব্দ তৈরি এবং উচ্চারণে সহায়তা

শিশুদের শব্দ তৈরি এবং উচ্চারণে সহায়তা করার জন্য আপনাকে একটু সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। এটা এমন নয় যে আপনি একজন শিক্ষক হয়ে তাদের শেখাবেন, বরং একজন বন্ধু বা গাইড হিসেবে তাদের পাশে থাকবেন। যখন একটি শিশু নতুন কোনো শব্দ বলতে চেষ্টা করে, তখন তাকে উৎসাহিত করুন। এমনকি যদি সে ভুল উচ্চারণও করে, তাহলেও তাকে প্রশংসা করুন, ‘খুব ভালো বলেছো!’ তারপর আপনি সঠিক উচ্চারণটা আবার করে দেখান, কিন্তু জোর করবেন না। যেমন, যদি সে ‘জল’ কে ‘লল’ বলে, আপনি বলতে পারেন, ‘হ্যাঁ, তুমি জল খেতে চাও? এই নাও জল!’ এতে সে সঠিক উচ্চারণটা বারবার শুনতে পাবে এবং ধীরে ধীরে শিখতে পারবে। আমি দেখেছি, শিশুরা যখন কোনো কিছুর প্রতি আগ্রহ দেখায়, তখন সেই বিষয় নিয়ে কথা বললে ওরা দ্রুত শেখে। যেমন, যদি আপনার সোনামণি কুকুর দেখতে ভালোবাসে, তাহলে কুকুর নিয়ে কথা বলুন, ‘ওই দেখো কুকুর! কুকুর কেমন ডাকে? ঘেউ ঘেউ!’ – এই ধরনের পুনরাবৃত্তিমূলক আলোচনা ওদের শব্দ শেখার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এছাড়া, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একসাথে মুখভঙ্গি করা, ঠোঁট নাড়ানো, এবং বিভিন্ন শব্দ তৈরি করাও খুব মজার একটা অনুশীলন হতে পারে। এতে শিশুরা নিজেদের মুখের নড়াচড়া দেখে শব্দ তৈরির কৌশল শিখতে পারে। মনে রাখবেন, প্রতিটি শিশু তার নিজস্ব গতিতে শেখে, তাই ধৈর্য ধরে তাদের পাশে থাকুন।

ধৈর্য ও ভালোবাসা: সঠিক বিকাশের মূলমন্ত্র

শিশুকে সময় দেওয়া ও শুনতে উৎসাহিত করা

শিশুদের ভাষা বিকাশের জন্য ধৈর্য এবং ভালোবাসা এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের ব্যস্ত জীবনে হয়তো সবসময় শিশুদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, কিন্তু বিশ্বাস করুন, এই ছোটবেলার সময়টুকু ওদের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যখন আপনার সোনামণির সাথে সময় কাটাবেন, তখন ওদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। ওরা হয়তো অসম্পূর্ণ বাক্য বলবে, বা হয়তো শুধু ইঙ্গিত করবে – কিন্তু ওদের প্রতিটি ইঙ্গিত এবং শব্দকে গুরুত্ব দিন। আমার এক বান্ধবী, ওর ছোট মেয়ের কথা বলার বিকাশে খুব চিন্তিত ছিল। আমি ওকে বলেছিলাম প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট মেয়ের সাথে শুধু কথা বলার জন্য, ওর কথা শোনার জন্য। অবাক হয়ে দেখবেন, ওর মেয়ে এখন কত সুন্দর কথা বলে! আসলে, শিশুরা যখন দেখে যে মা-বাবা ওদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন, তখন ওরা আরও বেশি কথা বলতে উৎসাহিত হয়। প্রশ্ন করুন, ‘আজ তুমি কী করেছো?’, ‘স্কুলে তোমার কী ভালো লেগেছে?’ – এই ধরনের খোলা প্রশ্ন ওদেরকে নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করতে সাহায্য করে। ওদের কথা বলার সময় বাধা দেবেন না বা বাক্য শেষ করে দেবেন না। ওদেরকে নিজেদের মতো করে শেষ করতে দিন। এতে ওরা আত্মবিশ্বাসী হবে এবং কথা বলার ভয় কেটে যাবে। মনে রাখবেন, আপনার দেওয়া সময়টুকুই ওদের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান উপহার, যা ওদের ভাষা বিকাশের পথকে মসৃণ করবে।

ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং প্রশংসা

শিশুদের ভাষা বিকাশে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং প্রশংসা যেন জাদুর মতো কাজ করে। যখন একটি শিশু নতুন কোনো শব্দ বলে বা কোনো বাক্য গঠন করার চেষ্টা করে, তখন তাকে প্রাণ খুলে প্রশংসা করুন। ‘বাহ! কী সুন্দর বলেছো!’, ‘আমি খুব খুশি হয়েছি তুমি এটা বলতে পেরেছো!’ – এই ধরনের উৎসাহমূলক কথাগুলো ওদের মনে আত্মবিশ্বাসের জন্ম দেয় এবং ওদেরকে আরও বেশি কথা বলতে উৎসাহিত করে। আমি যখন ছোটদের সাথে কথা বলি, তখন দেখি ওরা ছোট ছোট প্রশংসা পেয়ে কত খুশি হয়। ওদের মুখটা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে আর ওরা আরও কিছু বলতে চায়। এমনকি যদি ওরা ভুল উচ্চারণও করে, তবুও প্রশংসা করতে ভুলবেন না। যেমন, যদি সে ‘ফ্লাওয়ার’ কে ‘লাওয়ার’ বলে, আপনি বলতে পারেন, ‘হ্যাঁ, তুমি খুব সুন্দর একটা লাওয়ারের কথা বলেছো! ওটা ফ্লাওয়ার, তাই না?’ – এভাবে ভুল শুধরে দিন, কিন্তু প্রশংসা বন্ধ করবেন না। কঠোর সমালোচনা বা তিরস্কার ওদেরকে কথা বলার প্রতি ভীত করে তুলতে পারে এবং ওরা গুটিয়ে যেতে পারে। মনে রাখবেন, ওদের শেখার প্রক্রিয়াটা একটা আনন্দের যাত্রা, আর আপনার প্রশংসা সেই যাত্রার জ্বালানি। প্রতিটি ছোট ছোট অর্জনে ওদেরকে উৎসাহিত করুন, ওদের পাশে থাকুন, আর দেখবেন আপনার সোনামণি কত সুন্দরভাবে কথা বলতে শিখছে এবং ওদের ভাষা জ্ঞান কত সমৃদ্ধ হচ্ছে।

Advertisement

কখন বুঝবেন পেশাদারের সাহায্য দরকার?

কিছু লক্ষণ যা দেখলে সতর্ক হবেন

শিশুদের ভাষা বিকাশের ক্ষেত্রে প্রতিটি শিশুর নিজস্ব একটা গতি থাকে। কেউ দ্রুত শেখে, কেউ একটু ধীরে। এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু কিছু কিছু লক্ষণ আছে, যেগুলো দেখলে মা-বাবাদের একটু সতর্ক হওয়া উচিত এবং পেশাদার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া দরকার। আমার নিজের দেখা অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, অনেক সময় বাবা-মায়েরা ‘আরেকটু দেখি’ ভেবে সময় নষ্ট করেন, যা আসলে শিশুর জন্য ভালো হয় না। যেমন ধরুন, যদি আপনার শিশুর বয়স ১২ মাস হয়ে যায় কিন্তু সে কোনো আওয়াজ বা অঙ্গভঙ্গি (যেমন টাটা করা, মাথা নাড়া) না করে, অথবা ১৬ মাস বয়স হয়ে যাওয়ার পরও যদি সে কোনো একটি শব্দও না বলে, তাহলে একটু ভাবনার বিষয় আছে। ১৮-২৪ মাস বয়সেও যদি সে নিজের প্রয়োজন বোঝাতে না পারে, বা ২ বছরের বেশি বয়স হয়ে যাওয়ার পরও যদি সে শুধু ইশারা দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করে, দু’টি শব্দ যুক্ত করে বাক্য বলতে না পারে, অথবা অপরিচিত লোকেরা তার কথা বুঝতে না পারে, তাহলে অবশ্যই একজন স্পিচ থেরাপিস্ট বা শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলা উচিত। এছাড়া, যদি আপনার শিশু আপনার সাথে সরাসরি চোখে চোখ রেখে কথা না বলে, বা অন্য শিশুদের সাথে মেলামেশা করতে না চায়, অথবা যদি সে আপনার নাম ধরে ডাকলেও সাড়া না দেয়, এই লক্ষণগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে অনেক সমস্যাই সমাধান করা যায়। তাই, কোনো সন্দেহ হলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে ভয় পাবেন না।

সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শ

শিশুদের ভাষা বিকাশে যদি কোনো সমস্যা দেখা যায়, তাহলে সঠিক সময়ে একজন অভিজ্ঞ পেশাদারের সাহায্য নেওয়াটা খুবই জরুরি। অনেকেই হয়তো ভাবেন, ‘বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে’ অথবা ‘এটা এখনকার একটা ফ্যাশন’। কিন্তু আসলে ব্যাপারটা তেমন নয়। যত দ্রুত সমস্যার সমাধান করা যায়, ততই শিশুর জন্য মঙ্গল। আমি দেখেছি, যারা সময় মতো স্পিচ থেরাপিস্টের সাহায্য নিয়েছেন, তাদের বাচ্চারা খুব দ্রুত উন্নতি করেছে। একজন স্পিচ থেরাপিস্ট শিশুর ভাষার বিকাশকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করেন এবং সেই অনুযায়ী একটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন। এই পরিকল্পনায় বিভিন্ন খেলার মাধ্যমে শব্দ শেখানো, উচ্চারণ অনুশীলন করানো, এবং ভাষা বোঝার ক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়াও, তারা বাবা-মায়েদেরকেও নির্দেশনা দেন কীভাবে বাড়িতে শিশুদের সাথে কাজ করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, ভাষা বিকাশের সমস্যা অন্য কোনো underlying কারণের জন্যও হতে পারে, যেমন শ্রবণশক্তি সমস্যা বা অন্য কোনো নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার। একজন শিশু বিশেষজ্ঞ এই ধরনের সমস্যাগুলো শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারেন। তাই, যদি আপনার মনে সামান্যতম সংশয়ও থাকে, তবে সময় নষ্ট না করে একজন নির্ভরযোগ্য শিশু বিশেষজ্ঞ বা স্পিচ থেরাপিস্টের সাথে যোগাযোগ করুন। মনে রাখবেন, আপনার এই পদক্ষেপটি আপনার সোনামণির ভবিষ্যতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। ওদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আমাদের সবারই সচেতন থাকা উচিত।

글을মাচিয়ে

আশা করি আমার আজকের এই আলোচনা আপনাদের ছোট্ট সোনামণির কথা বলার বিকাশে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে। মনে রাখবেন, ওরা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, আর ওদের প্রতিটি মুহূর্তই আমাদের জন্য আনন্দময়। ওদের মুখে প্রথম শব্দ ফোটা থেকে শুরু করে অনর্গল কথা বলা – এই পুরো যাত্রাপথেই আমাদের ভালোবাসা, ধৈর্য আর সঠিক দিকনির্দেশনা অপরিহার্য। প্রতিটি শিশুর বিকাশের গতি আলাদা, তাই তুলনা না করে ওদের নিজস্ব ছন্দে বেড়ে উঠতে দিন। ওদের পাশে থাকুন, ওদের কথা শুনুন, আর ওদের মুখের হাসি দেখে আপনার জীবনও রঙিন হয়ে উঠুক!

Advertisement

알아두면 쓸মো 있는 তথ্য

১. শিশুদের সাথে নিয়মিত কথা বলুন: সারাদিন ওদের সাথে গল্প করুন, প্রশ্ন করুন, আর ওদের প্রতিটি ছোট্ট উত্তরকে গুরুত্ব দিন। এতে ওরা নিজেদের প্রকাশ করতে উৎসাহিত হবে।

২. স্ক্রিন টাইম কমান: গ্যাজেটের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের ভাষা বিকাশে বাধা দেয়। এর বদলে বই পড়া, খেলাধুলা, বা প্রকৃতির সাথে সময় কাটানোর সুযোগ দিন।

৩. বই পড়া ও গল্প বলা: রঙিন ছবিওয়ালা বই পড়ে শোনান এবং মজার মজার গল্প বলুন। এতে ওদের শব্দভান্ডার বৃদ্ধি পাবে এবং কল্পনাশক্তি বিকশিত হবে।

৪. গান ও ছড়ার মাধ্যমে শেখান: ছড়া ও গানের তাল-লয় শিশুদের মস্তিষ্কে শব্দ গেঁথে দিতে সাহায্য করে এবং উচ্চারণ স্পষ্ট হয়।

৫. ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও প্রশংসা: শিশুরা যখন কথা বলার চেষ্টা করে, তখন ওদের প্রশংসা করুন। ভুল করলেও তিরস্কার না করে ধৈর্য ধরে সঠিক উচ্চারণ শেখান।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি সাজিয়ে

আমাদের ছোট্ট সোনামণিদের সুন্দরভাবে কথা বলা শেখার এই যাত্রাটা আসলে এক গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি করারও একটা সুযোগ। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যখন আমরা মন থেকে শিশুদের সাথে মিশি, ওদের ছোট ছোট আগ্রহগুলোকে গুরুত্ব দিই, তখন ওদের মন খুলে যায়। আপনি হয়তো ভাবছেন, এত কাজ সামলে সময় পাবো কী করে? কিন্তু বিশ্বাস করুন, দিনে মাত্র ১৫-২০ মিনিট যদি আপনি ওদের সাথে শুধু কথা বলার জন্য বা গল্প শোনার জন্য দেন, সেটাই যথেষ্ট। এই অল্প সময়েই ওরা আপনার সাথে একটা দৃঢ় মানসিক বন্ধন অনুভব করবে, আর সেই বন্ধন ওদেরকে কথা বলতে আরও বেশি আগ্রহী করে তুলবে। মনে রাখবেন, ওরা শুধু শব্দ শিখছে না, ওরা শিখছে কিভাবে আবেগ প্রকাশ করতে হয়, কিভাবে নিজেদের চারপাশের জগতকে চিনতে হয়। ওদের মুখের হাসি, ওদের কৌতূহল, ওদের প্রতিটি নতুন শব্দ – এই সবকিছুই আমাদের জীবনে নতুন অর্থ নিয়ে আসে। তাই, ধৈর্য ধরুন, ভালোবাসা দিন, আর আপনার সোনামণিকে কথার এই অসাধারণ জগতে স্বাচ্ছন্দ্যে এগিয়ে যেতে সাহায্য করুন। ওদের সুন্দর ভবিষ্যৎ আমাদেরই হাতে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: আজকাল বাচ্চাদের কথা বলতে দেরি হওয়ার পেছনে আসল কারণগুলো কী কী বলে মনে হয় আপনার?

উ: দেখুন, আমার নিজের অভিজ্ঞতায় যেটা দেখেছি, এখনকার দিনে গ্যাজেটের বাড়বাড়ন্তই একটা বড় কারণ। আমরা অনেক সময় বাচ্চাদের হাতে মোবাইল বা ট্যাব দিয়ে দিই চুপ করানোর জন্য। ওরা তাতে এতটাই মগ্ন হয়ে যায় যে চারপাশের মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগটা পায় না। ভাবুন তো, আমরা যখন ছোট ছিলাম, মা-বাবার কাছে কত গল্প শুনতাম, ছড়া কাটতাম!
কিন্তু এখন সেটার অভাব স্পষ্ট। তাছাড়া, যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে যাওয়ায় অনেক সময় বাচ্চারা খেলার সঙ্গী বা বয়স্কদের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হয়, যেখানে তারা স্বাভাবিকভাবেই নতুন শব্দ শিখতে পারত। আমার তো মনে হয়, এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোই আমাদের সোনামণিদের মুখের কথা ফোটাতে দেরি করাচ্ছে। এটা কিন্তু শুধু শেখার ব্যাপার নয়, ওদের মস্তিষ্কের বিকাশেরও একটা অংশ। আমরা যদি ছোটবেলা থেকেই তাদের সাথে বেশি করে সময় কাটাই, গল্প বলি, তাহলে দেখবেন ওরা কত তাড়াতাড়ি সবকিছু শিখছে।

প্র: আমার সন্তানকে তাড়াতাড়ি কথা বলতে শেখানোর জন্য বাবা-মা হিসেবে আমরা কী কী করতে পারি? আপনার নিজের কোনো টিপস আছে কি?

উ: একদম ঠিক প্রশ্ন করেছেন! আমি সবসময় বলি, সন্তানকে কথা বলতে শেখানোটা কোনো কঠিন কাজ নয়, এটা ভালোবাসার সাথে সময় দেওয়ার ব্যাপার। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলি, প্রথমত, বাচ্চাদের সাথে প্রচুর কথা বলুন। ওরা কিছু না বুঝলেও, আপনার কণ্ঠস্বর, শব্দের ওঠানামা ওদের মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। যেমন, খাবার খাওয়ানোর সময় কী খাওয়াচ্ছেন, কেমন লাগছে – এসব নিয়ে গল্প করুন। দ্বিতীয়ত, ছবি দেখে গল্প করুন, ছড়া শোনান আর বই পড়ে শোনান। বইয়ের ছবিগুলো দেখিয়ে তাদের নাম বলতে বলুন, যদিও তারা বলতে না পারলেও আপনার বলা শব্দগুলো ওরা শুনছে। তৃতীয়ত, ওদের সাথে খেলুন!
বল ছোড়াছুড়ি, লুকোচুরি – এই খেলার ছলে নতুন নতুন শব্দ ব্যবহার করুন। “বল”, “দে”, “নাও”, “আসো” – এই সহজ শব্দগুলো বারবার বললে ওরা তাড়াতাড়ি বুঝতে পারে। আর হ্যাঁ, গ্যাজেট থেকে দূরে রাখুন!
আমি দেখেছি, যে বাচ্চারা স্ক্রিনে কম সময় দেয়, তারা দ্রুত নতুন শব্দ শেখে আর অন্যদের সাথে ভালোভাবে মিশতে পারে। মনে রাখবেন, আপনার দেওয়া সময় আর মনোযোগই ওদের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক।

প্র: কখন বুঝব যে আমার সন্তানের কথা বলতে দেরি হওয়াটা চিন্তার কারণ, আর কখন একজন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া উচিত?

উ: এই প্রশ্নটা সত্যি খুব গুরুত্বপূর্ণ! আসলে কখন চিন্তিত হতে হবে, সেটা নিয়ে অনেক বাবা-মা দ্বিধায় ভোগেন। দেখুন, প্রতিটি বাচ্চার বিকাশের গতি ভিন্ন হয়, এটা ঠিক। কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখলে অবশ্যই আমাদের একটু সতর্ক হতে হবে। যেমন, যদি আপনার বাচ্চা ১৮ মাস বয়সেও কোনো নির্দিষ্ট শব্দ (যেমন: বাবা, মা) না বলে, বা যদি সে অঙ্গভঙ্গি বা ইশারায়ও নিজের প্রয়োজন বোঝাতে না পারে। আমার নিজের দেখা এক পরিবারে, বাচ্চার বয়স ২ বছর পেরিয়ে গেলেও সে শুধু অস্পষ্ট আওয়াজ করত, কোনো শব্দ বা ছোট বাক্য বলতে পারছিল না। যদি দেখেন আপনার শিশু ২ বছর বয়সেও দুটো শব্দের বাক্য (যেমন: “জল দাও”, “আমি যাব”) বলতে পারছে না, বা আপনার কথা বুঝতে পারছে না, অথবা অন্যের সাথে কোনোভাবেই যোগাযোগ স্থাপন করতে চাইছে না, তখন আর দেরি না করে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ বা স্পিচ থেরাপিস্টের সাথে কথা বলা উচিত। ওরা কিন্তু শুধু কথা বলতে শেখায় না, বাচ্চার সামগ্রিক বিকাশেও সাহায্য করে। তাড়াতাড়ি পদক্ষেপ নিলে অনেক বড় সমস্যা এড়ানো যায়, মনে রাখবেন।

📚 তথ্যসূত্র

Advertisement